Group Discussion




Powered by Froala Editor

কর্মজীবী মা শিশুর মানসিক বিকাশের প্রধান বাঁধা

Powered by Froala Editor

পক্ষে 
 ● শিশুর ৯৫ শতাংশ বিকাশ ঘটে মাতৃগর্ভে; বাকি ৫ শতাংশ বিকাশ সম্পন্ন হয় জন্মের ৫ বছরের মধ্যে। বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় মানসিক ও সামাজিক বিকাশ আজীবন চলতে থাকে। জাতিসংঘের ১৯৮৯ সালের শিশু অধিকার কনভেনশন (সিআরসি) অনুসারে, ‘১৮ বছরের কম বয়সী সব মানুষই শিশু।’ এ সময়ে শিশু পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে শিখে যায়। একজন কর্মজীবী মা সন্তানকে সেই পরিমাণ সময় দিতে পারে না; যতটা একজন গৃহিণী মা দিতে পারেন। 
 ● শিশুর বেড়ে ওঠায় মা-বাবার ভূমিকা অনস্বীকার্য, বিশেষ করে মায়ের। কর্মজীবী মা-বাবার সন্তানরা একাকী বেড়ে ওঠে, হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ, সময় কাটে চুপচাপ পরিবেশে। সঙ্গী হয় মোবাইলে গেমস খেলা, টিভিতে কার্টুন দেখা আর খেলনার সঙ্গে। এসব ভার্চুয়াল উপকরণনির্ভর জীবনযাপনে শিশুরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 
 ● সন্তানরা শিখবে শুধু মায়ের কাছ থেকে। সেই মা-ই যদি কর্মজীবী হয়, তবে সন্তানরা কার কাছ থেকে শিখবে? কে খেয়াল রাখবে সন্তানদের ও পরিবারের?
 ● জীবনের বিভিন্ন জটিলতা যেমন দায়িত্ব পালনে ব্যার্থতার ভয়, সন্তানের চিন্তা, সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, কর্মক্ষেত্রে জটিলতা একজন কর্মজীবী মা’কে মানসিকভাবে দূর্বল করে দেয়। 
 ● ২০১৬ সালে পরিচালিত চাইল্ড ওয়েল কিং সার্ভে ও এমআইসিএসের তথ্যে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের শহরে বস্তির শিশুদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ধীরে ধীরে গ্রামের শিশুদের চেয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর পেছনে বড় একটি কারন হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে মায়েদের শিশুদের কাছ থেকে দূরে থাকা।
 
 বিপক্ষে 
 ● কর্মজীবী হলেও অনেক মা শিশুর চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তারা সচেতন মা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
 ● আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক কর্মজীবী মা বাসা থেকেই শিশুর যত্ন নিতে সক্ষম। 
 ● দক্ষ শিশু দেখভালকারী নিয়োগ করে কর্মজীবী মায়েরা শিশুর যত্ন নিশ্চিত করতে পারেন।
 ● কর্মজীবী মায়েরা শিশুদের আর্থিকভাবে স্বাধীন করে তুলতে পারেন যা তাদের মানসিক উন্নয়নে সহায়ক।
 
 শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশকে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করেছে। নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। নীতিমালার সফল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তার জন্য বিনিয়োগ করা প্রয়োজন, যা বিভিন্ন খাতের সমন্বয় ও পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে করা সম্ভব। বিনিয়োগের সদিচ্ছা না থাকলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে একটা অপেক্ষাকৃত তরুণ জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও।

Powered by Froala Editor