Powered by Froala Editor
মেট্রোরেলই ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের একমাত্র সমাধান
Powered by Froala Editor
২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি-৬ প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে শুরু হয় স্বপ্নের ঢাকা মেট্রোর নির্মাণকাজের সূচনা। নকশাগত ত্রুটি, কোভিড মহামারি, হোলি আর্টিজান হামলায় জাপানি প্রকৌশলীদের মৃত্যুসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক দফা পিছিয়েছে মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ। নানা কারণে বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়ও। অবশেষে বহু প্রতিক্ষার পরে ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ সালে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তবে তা ছিলো আংশিক, পরবর্তীতে মিরপুর, উত্তরার সকল স্টেশন এবং ২০২৩ এর অক্টোবরে মতিঝিল স্টেশন চালু করা হয়।
ঢাকা শহরের অসহনীয় যানজট সম্পর্কে আমরা সকলে অবগত। ঢাকা মহানগরে যানজট-শাসন-ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়, ২০০৪ সালে ঢাকার রাস্তায় প্রতি ঘণ্টায় গাড়ির গতিসীমা ছিল গড়ে ২১ দশমিক ২ কিলোমিটার, ২০১৬ সালে তা ঘণ্টায় ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটারে এসে দাঁড়ায়। দিনের পর দিন যেন আরো বেড়ে চলেছে যানজটের প্রকট। যানজট মোকাবিলায় তৈরি হয়েছে বাইপাস, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল সড়ক। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দরকার ছিলো মেট্রোরেলের। আধুনিক বিশ্বের প্রায় সকল দেশে এই যানটি বিদ্যমান। দ্রুতগতি ও দ্রুতসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এর বিকল্প কম। মিরপুর থেকে মতিঝিল যেতে যেখানে ২ ঘণ্টা কিংবা তার বেশি সময় লাগত, সেখানে মেট্রোরেল দিয়ে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট। পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান গণামাধ্যমকে বলেন, ঢাকার মতো একটি জনবহুল শহরে মেট্রোরেল ছাড়া যানজটের তেমন কোনো সমাধান নেই। বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। দেশের প্রধান প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিল্প, উন্নত কর্মসংস্থান, বাসস্থান, শিক্ষা ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় জীবনের এক পর্যায় উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে প্রায় সবাইকেই ঢাকায় আসতে হয়। সুতরাং ধারণক্ষমতার অনেক বেশি জনসংখ্যা ঢাকায়। তারওপর রাস্তায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। পরিসংখ্যান বলছে বিগত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ঢাকার রাস্তায়। যানজট তৈরির জন্য যা একটি আশংকাজনক কারণ। এমতাবস্থায় বিকল্প পন্থা অবলম্বন করা ছাড়া উপায় থাকে না। এই বিকল্প পন্থা হচ্ছে মেট্রোরেল। যা একটি যানজটমুক্ত দ্রুত গতির যাতায়াত সমাধান। স্বাভাবিকভাবে জনসংখার বিরাট একটি অংশ মেট্রোরেল ভ্রমণ করলে রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের যানজট কমে যাবে। প্রতিদিন মেট্রোতে যাতায়াত করতে পারে প্রায় ৬ লাখ মানুষ। যা ২০৫১ সালে ১৩ লাখে পৌঁছে যাবে।
তবে মেট্রোরেল ঢাকাবাসীদের আশার কথা শুনালেও তা ঠিক কতটা আশা পূরণ করতে পারছে তা ভাবার বিষয়। তবে কি বহু প্রতিক্ষিত মেট্রোরেল আমাদের এত ভোগান্তির সমাধান করতে পারবে না? উত্তর হ্যাঁ কিংবা না দেয়ার আগে জেনে নেয়া দরকার ঢাকা শহরের এত জ্যামের কারণ কী কী এবং কতগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ঢাকা শহরের যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এর অধিক জনসংখ্যা। অপরদিকে ঢাকা শহর বিকেন্দ্রীকরণ হ্রাস একটি বড় কারণ যা আগেই বলা হয়েছে। অপরদিকে রাজধানীর অসহনীয় যানজটের আরেকটি বড় কারণ শহরটির দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামো। ঢাকার রাস্তা যে পরিমাণ গাড়ি ধারণে সক্ষম, তার চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি গাড়ি চলে। আবার যানজটের একটি বড় কারণ হলো সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ যথাসময়ে ও সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়া। এর ফলে পরিবেশ ও জনজীবন ব্যবস্থা দু’টিরই ক্ষতি হয়।
উপরে যেকয়টি কারণ বলা হয়েছে সেগুলো যানজটের অন্যতম কারণ। এখন যদি বলা হয়ে এইসব সমস্যার একমাত্র সমাধান কি মেট্রোরেল? উত্তর সম্ভবত না বোধকই হবে। যতদিন রাজধানীর এই বড় বড় সমস্যার সমাধান না হচ্ছে ততদিন মেট্রোরেলে অর্ধেকাংশ যাত্রী উঠলেও যানজটের সমস্যার সমাধান হবেনা। অন্যদিকে, বর্তমানে মেট্রোরেল যে রুটে যাত্রা করছে সেসকল রুটের বাইরের স্থানে মেট্রোরেল না থাকায় যানজট কমছে না। মেট্রোরেলে যাত্রা করেও অনেককে আবার গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। অপরদিকে শহরের একটা বড় অংশজুড়ে আছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ। দৈনিক মেট্রোরেলের ভাড়া তাদের জন্য বহন করা বেশ কষ্টেরই বটে। সুতরাং তাদের জন্য মেট্রোরেল ঠিক কতটা স্বস্তির খবর নিয়ে আসে সেটা চিন্তার বিষয়।
সকল আলোচনা-সমালোচনা থেকে বোঝা যায় মেট্রোরেল যানজট নিরসনের অন্যতম সমাধান হতে পারে তবে তা সঠিক অনুসন্ধান, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পদক্ষেপ নেয়ার পর।
Powered by Froala Editor
Powered by Froala Editor
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কি অবলিম্বে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা উচিত
Powered by Froala Editor
"সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কি অবলিম্বে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা উচিত
এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় দিক রয়েছে।
ইতিবাচক দিক:
ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলী, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করার ক্ষমতা বিকাশে সহায়তা করতে পারে।
ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের দেশ এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন হতে এবং তাদের মতামত প্রকাশ করতে উৎসাহিত করতে পারে।
ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিখতে এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করার জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করতে পারে।
ছাত্র রাজনীতি অনেক জায়গায় বন্ধ রয়েছে। ঢাকা শহরের নামিদামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নেই। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ বলতে সেখানে কোনো ছাত্রলীগ নেই, ছাত্রদল কিংবা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেই সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন করে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে পারে। কিন্তু এর পরিণতি হবে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে জোড়ালো অবস্থান। আশির দশকে মাসের পর মাস বিশ্ববিদ্যালয় অনির্ধারিত বন্ধ থাকত। ক্যাম্পাসে গোলাগুলিসহ নানা প্রতিকূল অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি। ষাট এবং সত্তর দশকে রাজনীতিতে আদর্শিক একটি বিষয় ছিল। সে সময় গোটা বিশ্ব দুইভাবে বিভক্ত ছিল। একটি ধনবাদী সমাজ ব্যবস্থা। শোষণহীন সমাজ বিনির্মাণসহ নানা মতাদর্শ চর্চা হত। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর থেকে শুরু করে ইরানের ইসলামী বিপ্লব, আফগানিস্তানের তালেবান উত্থান-পতন, আলকায়দা, আইএস ইত্যাদি ছাড়া আদর্শভিত্তিক কোনো আলোচনা আর নেই। ছাত্র রাজনীতিকে উদ্বুদ্ধ করার মত কোনো আদর্শ আমাদের সামনে নেই।
নেতিবাচক দিক:
ছাত্র রাজনীতি সহিংসতা, অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক দলাদলির দিকে পরিচালিত করতে পারে।
ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে বিরত রাখতে পারে এবং তাদের ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ছাত্র রাজনীতি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং তাদের স্বাধীন চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।রাজনৈতিক বিষয় থাকলেও ছাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সবার আগে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু আসলে তারা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহারে ব্যস্ত থাকে।'সাধারণত শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক কর্মসূচী ও সমাবেশে যোগ দিতে আগ্রহী হয় না। কিন্তু, হলের সিট বাঁচাতে এবং বড় ভাইদের চোখে ভালো থাকতে তারা বাধ্য হয়।
"
Powered by Froala Editor
সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে খনিজ সম্পদের সীমিত ব্যবহার করা সম্ভব
পক্ষে
● সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে খনিজ সম্পদের সীমিত ব্যবহার করা সম্ভব। সমুদ্র খনিজ সম্পদের একটি বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তেল, গ্যাস, খনিজ, এবং ধাতু। এই সম্পদগুলিকে খনন এবং ব্যবহার করার জন্য নতুন প্রযুক্তিগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নত হচ্ছে।সমুদ্র তেল এবং গ্যাসের বিশ্বের বৃহত্তম উৎস।
● ২০২০ সালে, বিশ্বের মোট তেলের উৎপাদনের প্রায় ৩০% এবং গ্যাসের উৎপাদনের প্রায় ৩০% সমুদ্র থেকে এসেছে। সমুদ্র প্রচুর পরিমাণে খনিজ ধারণ করে, যার মধ্যে রয়েছে তামা, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, এবং নিকেলের মতো ধাতু। এই খনিজগুলি বিদ্যুৎ উৎপাদন, নির্মাণ, এবং অন্যান্য শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্র প্রচুর পরিমাণে ধাতু ধারণ করে, যার মধ্যে রয়েছে সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম, এবং প্যালেডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতু। এই ধাতুগুলি বৈদ্যুতিন, গহনা, এবং অন্যান্য শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
● সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি করা খনিজ সম্পদের উপর নির্ভরতা হ্রাস করার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। তবে, সমুদ্র সম্পদ পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য হুমকিও সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, তেল ও গ্যাসের খনন তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে, যা পরিবেশকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। খনিজ ও ধাতু উত্তোলনও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সমুদ্র ও এর সম্পদকে কতভাবে ও কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে চলছে গবেষণা ও কর্মযজ্ঞ।
● ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বের বিভিন্ন উপকূলীয় দেশ ও দ্বীপের সরকারগুলো অর্থনীতির এক নতুন ক্ষেত্র হিসেবে সমুদ্রের দিকে নজর দিচ্ছে এবং ব্লু ইকোনমির ওপর নির্ভর করে দেশের প্রবৃদ্ধি নীতি গ্রহণ করেছে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি এখন সমুদ্র অর্থনীতির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। খাদ্য, খনিজ, জ্বালানি ও ওষুধের কাঁচামালের উৎস হিসেবে সমুদ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো বহু বছর ধরে সামুদ্রিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে আসছে। চীনে সমুদ্র অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। এগুলো হলো সমুদ্র কৌশলকে জাতীয় কৌশল হিসেবে গড়ে তোলা, জমি ও সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক সম্পদ বিকাশে অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার, সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়ন এবং সমুদ্র রক্ষার নতুন ধারণা তৈরি করা। বাংলাদেশও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারে।
বিপক্ষে
● সমুদ্র সম্পদ পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তেল ও গ্যাসের খনন তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে, যা পরিবেশকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। খনিজ ও ধাতু উত্তোলনও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সমুদ্র সম্পদগুলি খনিজ সম্পদের বিকল্প হিসাবে সীমিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
● সমুদ্র খনিজ সম্পদের একটি বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, তবে এই সম্পদগুলি সবসময় খনন করা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু খনিজ সম্পদ সমুদ্রের গভীরতম অংশে অবস্থিত, যেখানে এগুলি খনন করা খুব ব্যয়বহুল বা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে খনিজ সম্পদের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা যেতে পারে, তবে এটি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। খনিজ সম্পদগুলি এখনও অনেক শিল্পের জন্য অপরিহার্য, এবং সমুদ্র সম্পদগুলি এই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে না।
● সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাব্য সুবিধা এবং ঝুঁকিগুলি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উপায়ে সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করা সম্ভব, তবে এটি করার জন্য সতর্ক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তেল ও গ্যাসের খনন তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে, যা পরিবেশকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ২০১০ সালের মেক্সিকো উপসাগরের তেল ছড়িয়ে পড়ার প্রায় ২০০ মিলিয়ন গ্যালন তেল ছড়িয়ে পড়েছিল, যা মেক্সিকো উপসাগরের পরিবেশকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। খনিজ ও ধাতু উত্তোলনও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। খনিজ ও ধাতু উত্তোলন প্রায়শই জল দূষণ, মাটি দূষণ, এবং বায়ু দূষণের কারণ হয়। সমুদ্র সম্পদগুলি সবসময় খনন করা সম্ভব নয়। কিছু খনিজ সম্পদ সমুদ্রের গভীরতম অংশে অবস্থিত, যেখানে এগুলি খনন করা খুব ব্যয়বহুল বা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে খনিজ সম্পদের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা যেতে পারে, তবে এটি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। খনিজ সম্পদগুলি এখনও অনেক শিল্পের জন্য অপরিহার্য, এবং সমুদ্র সম্পদগুলি এই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে না।
সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে খনিজ সম্পদের সীমিত ব্যবহার করা সম্ভব। তবে, এই প্রক্রিয়াটিতে পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে এবং সমুদ্র সম্পদগুলি সবসময় খনন করা সম্ভব নয়। সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাব্য সুবিধা এবং ঝুঁকিগুলি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
Powered by Froala Editor
শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য পরিবারের চেয়ে কি পরিবেশের ভূমিকাই বেশি?
Powered by Froala Editor
পক্ষে
● পরিবেশের ভূমিকা বিতার্কিক শিশুর সঠিক বিকাশে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা তাদের চারপাশের পরিবেশ থেকে অনেক কিছু শেখায়। তারা তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে শিখতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত যে শিশুর শারীরিক বিকাশের মতো মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে তার জীবনের প্রথম বছরগুলো।
● যে শিশুটি জীবনের প্রথম সাত-আট বছর তার বিকাশের জন্য সহায়ক পরিবেশ পায়, সে অন্য শিশুদের (যারা সহায়ক পরিবেশ পায়নি) চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান, সামাজিক ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। তার কথা বলার দক্ষতা, সামাজিক দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস প্রভৃতির বিকাশ ঘটে, যা পরবর্তী জীবনে তাকে সুখী ও সুন্দর থাকতে সহায়তা করে। শিশুরা জীবনের প্রথম বছরগুলো পরিবারের সঙ্গেই কাটায়। পরবর্তী সময়ে স্কুল, শিক্ষক, খেলার সাথি যুক্ত হয়ে শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বর্তমানে স্কুল বয়সি শিশুরাও গৃহবন্দি অবস্থায় সময় কাটাচ্ছে। আমরা একটু সচেতন হয়ে শিশুদের বিভিন্ন কাজে, খেলায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সময়টা আরো উপভোগ্য করে তুলতে পারি।
● শিশুর সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বয়স অনুযায়ী কী বলতে হবে, কী কী করতে হবে, কোন কাজ কীভাবে করতে হবে—এগুলো জানা জরুরি। এমন কিছু কথা আছে যেগুলো শিশুর সঙ্গে বললে তার মেধা, বুদ্ধি, বোঝার ক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পায় এবং তা পরবর্তী শিক্ষাজীবনে সহায়ক হয়; আবার অনেক কথা ও কাজ, যা আমরা সচরাচর শিশুদের বলি বা তাদের সঙ্গে করে থাকি, যেগুলো শিশুদের হতাশা, ক্ষোভ ও মানসিক বিপর্যয়ের কারণ হয়।
বিপক্ষে
● নরম কাদা মাটিসদৃশ শিশুরা শৈশবে যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তার প্রভাব তার জীবনে স্থায়ী হয়ে যায়। এ কারণে পরিবার হচ্ছে শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। প্রতিদিন মা-বাবার ঝগড়ার প্রত্যক্ষদর্শী অনেক শিশুর মধ্যে পরবর্তীকালে ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতাও দেখা যায়। সমাজে মানিয়ে চলতে অসুবিধা হয় তাদের। গর্ভকালে যেসব মা নির্যাতনের শিকার হন অথবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, তাঁদের সন্তানও জন্মের পর নানা জটিলতায় ভোগে।
● নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই মেডিক্যাল সেন্টারের ট্রমাটিক স্ট্রেস স্টাডিজ বিভাগে সম্পন্ন এক গবেষণায় দেখা যায়, মাতৃগর্ভে থাকার সময় যাদের মা মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছিলেন, সেই শিশুরা সহজেই মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে এবং তাদের মধ্যে অ্যাংজাইটি বা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিস-অর্ডার হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পারিবারিক কলহের মধ্যে বেড়ে ওঠা অথবা মাকে নির্যাতিত হতে দেখা শিশুদের জীবনের প্রথম দিকের বছরগুলোতে তারা হয় বিশেষভাবে অরক্ষিত ও অসহায়। এসব শিশু পরবর্তীকালে হিংস্র, ঝুঁকিপূর্ণ বা অপরাধমূলক আচরণ করতে পারে। বিষণ্নতা বা তীব্র দুশ্চিন্তায় ভোগার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে এসব শিশু।’ শিশুর মানসিক বিকাশে মা-বাবার ভালোবাসা ও সান্নিধ্যের কোনো বিকল্প নেই।
● পরিবারে মাকে নির্যাতিত হতে দেখলে শিশু নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। শিশুর মা-বাবার বন্ধুত্বপূর্ণ ও মধুর সম্পর্ক শিশুর মধ্যে পরম সুখ ও নিরাপত্তাবোধ জাগায়। বাবাকেও তাই শিশুর মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে হবে। ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ইশরাত শারমীন রহমান বলেন, ‘পারিবারিক নির্যাতন দেখে বেড়ে ওঠা শিশুরা এমন ধারণা নিয়ে বেড়ে ওঠে যে অন্যকে আঘাত করা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। সে যে কাউকে আঘাত করতে পারে। আবার সেও অন্যের কাছ থেকে আঘাত পেতে পারে। তাই বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই তাদের নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।’
পরিবেশ এবং পরিবার উভয়ই শিশুর সঠিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবেশ শিশুকে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। পরিবার শিশুর মৌলিক দক্ষতা, মূল্যবোধ, এবং আত্মবিশ্বাস গঠন করে। পরিবেশের ভূমিকা শিশুর বিকাশে বেশি হতে পারে, কারণ শিশুরা পরিবারের বাইরে বেশি সময় ব্যয় করে এবং বিভিন্ন ধরনের মানুষকে দেখে এবং তাদের কাছ থেকে শিখে। তবে, পরিবারের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পরিবার শিশুর প্রথম স্কুল এবং শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Powered by Froala Editor
নিরাপত্তাহীনতাই বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অবনতির কারণ
পক্ষে
● নিরাপত্তাহীনতা পর্যটন শিল্পের অবনতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পর্যটকরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হলে তারা কোনও দেশে ভ্রমণ করতে চায় না। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক সহিংসতা, অপরাধপ্রবণতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি কারণে নিরাপত্তা সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যাগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বাধা দেয়।
● নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটকরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। তারা চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ইত্যাদির শিকার হতে পারে। এছাড়াও, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পর্যটকদের মৃত্যু, আহত হওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
● নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটন শিল্পের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেলে পর্যটন শিল্পের আয় কমে যায়। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ইত্যাদির ক্ষতি হয়।
বিপক্ষে
নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অবনতির জন্য অন্যান্য কারণও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
● পর্যটন শিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব।
● পর্যটন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তির অভাব।
● পর্যটন শিল্পের প্রচার-প্রচারণার অভাব।
● পর্যটন শিল্পের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব।
মতামত
নিরাপত্তাহীনতা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অবনতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তবে, এটি একমাত্র কারণ নয়। অন্যান্য কারণগুলোও পর্যটন শিল্পের অবনতি ঘটাতে ভূমিকা পালন করে।
নিরাপত্তাহীনতা সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সামাজিক সহিংসতা দমন, অপরাধপ্রবণতা কমানো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ইত্যাদি পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়াও, পর্যটন শিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রচার-প্রচারণা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। নিরাপত্তাহীনতা সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি অন্যান্য কারণগুলোও সমাধান করা হলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নতি সম্ভব।